বিষয় কোডঃ ৭৬
কারিকুলাম কোডঃ ৩০
বেসিক ট্রেড ৩৬০ ঘন্টা
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত, বেসিক ট্রেড কোর্সের সিলেবাস মোতাবেক প্রণীত
তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য
সম্পাদনা
এ কে এম শাফিউল আজম
কম্পিউটার একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র।কম্পিটার শব্দটির গ্রীক শব্দ । compute থেকে computer কথাটি এসেছে computer শব্দটির অর্থ হচ্ছে হিসাব বা গণনা করা ।
কম্পিউটার একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র।বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারনে কম্পিউটার আজ সর্বশ্রেষ্ট যন্ত্র হিসেবে অবিহিত হয়েছে।
গ্রহণ মুখ >সিপিইউ>নির্গমন মুখ
উনিশ শতকের শুরুর দিকে আধুনিক একটি যন্ত্রের নির্মাণ ও ব্যবহারের ধারণা দেন চার্লস ব্যাবেজ। তিনি এটির নাম দেন ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference Engine)। এই ডিফারেন্স ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করার সময় (১৮৩৩ সালে) তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে আরও উন্নত ও সর্বজনীন একটি যন্ত্রে ধারণা লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল কর্পোরেশন ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করার পর, মাইক্রোকম্পিউটারের দ্রুত বিকাশ ঘটতে থাকে।
বিবর্তনের অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করে কম্পিউটার আজ বর্তমান অবস্থায়এসেছে। একটি প্রজন্ম থেকে আরেকটি প্রজন্মের পরিবর্তনের সময় সমস্যা গুলোর সমাধান করে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটিয়ে এক একটি প্রজন্মের আত্মপ্রকাশ ঘটানো হয়।
গঠনগত দিক থেকে কম্পিউটারকে ৩(তিন)ভাগে ভাগ করা হয়, আকার,আকৃতির দিক থেকে ডিজিটাল কম্পিউটারকে ৪(চার)ভাগে ভাগ করা হয়
কম্পিউটারের বাহ্যিক অংশ যা দেখা যায় ও স্পর্শ করা যায়, যার মাধ্যমে কম্পিউটারের আভ্যন্তরীন প্রাণ শক্তি বা সফটওয়ার পরিচালিত হয় তাই হার্ডওয়ার । যেমনঃ মনিটর, কীবোর্ড
কম্পিউটারের কেসিং বক্স এর ভিতরে যে সকল হার্ডওয়্যার থাকে সেগুলোকে ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার বলে।
কম্পিউটারের কেসিং বক্স এর বাহিরে যে সকল হার্ডওয়্যার থাকে সেগুলোকে এক্সটারনাল হার্ডওয়্যার বলে।
সফটওয়্যার কে বলা হয় কম্পিউটারের প্রাণ শক্তি । এটি চোখে দেখা যায় কিন্তু স্পর্শ করা যায় না । “কম্পিউটার সফটওয়্যার” হলো কিছু ডাটা (data) এবং কম্পিউটার নির্দেশ (instructions) এর সংগ্রহীত মিশ্রণ, যেটা একটি প্রোগ্রাম (program) হিসেবে বিবেচিত হয় ।
কম্পিউটার পর্দার সকল আইকনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে My Computer| এই আইকন দিয়ে কম্পিউটার ভিতরে ড্রাইভ , প্রোগ্রাম , ফোল্ডার ,ফাইল ইত্যাদি ওপেন করা যায়।
মাইক্রোসফট অফিস ইনস্টল করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার ডিভাইসের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণ করে।
ওয়ার্ড প্রসেসিং কী? ওয়ার্ড মানে শব্দ এবং প্রসেসিং অর্থ প্রক্রিয়াকরণ। ওয়ার্ড প্রসেসিং হলো এক ধরনের কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন যা ডকুমেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, বিন্যাস, এবং সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word) হলো মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরি একটি শক্তিশালী ও বহুল ব্যবহৃত ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার।
কী-বোর্ড থেকে Ctrl+N প্রেস করলে একটি নতুন উইন্ডো ওপেন হবে।
কী-বোর্ড থেকে Ctrl+S প্রেস করলেও Save করা যাবে।
ডকুমেন্টের ডানপার্শ্বের উপর কর্ণারে x ক্রোস চিহ্নে ক্লিক করলেও মাইক্রোসফট ওয়ার্ড প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাবে।
কী-বোর্ড থেকে Ctrl+O প্রেস করলে ওপেন ডায়ালগ বক্স প্রদর্শিত হবে।
কী-বোর্ড থেকে Ctrl+P প্রেস করলে প্রিন্ট ডায়ালগ বক্স প্রদর্শিত হবে।
লেখার সম্পূর্ণ আংশ সিলেক্ট করার শর্টকাট কী Ctrl+A
Copy: শর্টকাট কী Ctrl+C, Cut: শর্টকাট কী Ctrl+X, Paste: শর্টকাট কী Ctrl+V
Bold: Ctrl+B প্রেস করলে Font মোটা হবে।
Italic: Ctrl+I প্রেস করলে Font Italic (বাঁকা) হবে।
Underline: Ctrl+U প্রেস করলে সিলেক্টকৃত লেখার নিচে আন্ডার লাইন হবে।
কী-বোর্ড থেকে Ctrl+D প্রেস করলেও Font ডায়লগ বক্স আসবে। বক্সের নিচে Effects সমূহ দেখা যাবে।
টেক্সট হাইলাইট করার মাধ্যমে আপনি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আলাদা করে প্রদর্শন করতে পারেন।
ফন্ট কালার পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি লেখার রঙ পরিবর্তন করতে পারেন, যা ডকুমেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
Alignment (অ্যালাইনমেন্ট) ৪ ধরনের, Left Alignment (Ctrl+L), Right Alignment(Ctrl+R), Center (Ctrl+E), Justify (Ctrl+J)
Indentation (ইনডেন্টেশন) ৩ ধরনের, Increase Indent, Decrease Indent ও Custom Indent
প্যারাগ্রাফের প্রতি লাইনের মধ্যে দূরত্ব থাকে এক লাইন। প্রয়োজন মনে করলে এর দূরত্ব বাড়ানো বা কমানো যায়।
বুলেট এবং নম্বরিং ফিচারটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তালিকা তৈরি করার একটি জনপ্রিয় এবং কার্যকরী উপায়। এটি কোনো তথ্যকে সুগঠিত এবং সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করে।
টেক্সট বর্ডার হলো একটি নির্দিষ্ট টেক্সটের চারপাশে একটি বর্ডার (সীমা) তৈরি করা। এটি গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট বা অনুচ্ছেদকে হাইলাইট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
Find & Replace হলো মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটি অত্যন্ত কার্যকর ফিচার, যা আপনাকে ডকুমেন্টের নির্দিষ্ট শব্দ, বাক্যাংশ, বা ফরম্যাট খুঁজে বের করতে এবং প্রয়োজনে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিস্থাপন করতে সাহায্য করে।
টেবিল তথ্য উপস্থাপনার জন্য উপযুক্ত। এটি বিভিন্ন ধরনের ডেটা সুন্দরভাবে সংগঠিত করতে সাহায্য করে।
ডকুমেন্টের বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেক সময় ছবি আনতে হয়।সাধারণত দুই ধরনের ছবি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।একটি হচ্ছে আকাঁ অর্থাৎ ক্লিপ আর্ট, অন্যটি হচ্ছে ইমেজ ।
ডকুমেন্টকে সুন্দর ও আর্কষনীয় ভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সেপের মাধ্যমে টেক্সটকে সজ্জিত করা যায়।
Header & Footer মূলত পৃষ্ঠার মার্জিনের উপরের ও নিচের আংশ।
ডকুমেন্ট টাইপ করার সময় কিছু কিছু চিহ্ন/প্রতীক প্রয়োজন হয়, যা কী-বোর্ডে নাই। এ চিহ্ন/প্রতীকগুলো যেখানে প্রয়োজন সেখানে কার্সর রাখতে হবে।
গণিতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সমীকরণ।ডকুমেন্টে সমীকরণ বহুল ব্যবহৃত একটি বিষয়।
Text Box ব্যবহার করে ডকুমেন্টে টেক্সটবক্স যোগ করা যায়, যা ডকুমেন্টের যেকোনো স্থানে সরানো এবং কাস্টমাইজ করা যায়।
ওয়ার্ডআর্ট ব্যবহার করে টেক্সটকে স্টাইলাইজড এবং আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
ড্রপ ক্যাপ ব্যবহার করে একটি প্যারাগ্রাফের প্রথম অক্ষর বড় আকৃতির এবং ডিজাইন করা যায়।
অবজেক্ট অপশন ব্যবহার করে ডকুমেন্টে অন্যান্য ফাইল (যেমন, এক্সেল স্প্রেডশিট, পিডিএফ, ইত্যাদি) এমবেড করা যায়।
পেজ বর্ডার হলো পুরো পৃষ্ঠার চারপাশে একটি সজ্জিত সীমারেখা। এটি সাধারণত অফিসিয়াল ডকুমেন্ট, সার্টিফিকেট, অথবা কোনো সৃজনশীল নকশা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ডকুমেন্টে জলছাপ তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় ওয়াটার মার্ক।
ডকুমেন্টে মার্জিন ব্যবহার করা হয় যাতে লেখা বা ছবি পৃষ্ঠার কিনারা থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকে, যা নথিটিকে আরও স্পষ্ট, পাঠযোগ্য এবং পেশাদার করে তোলে।
ডকুমেন্টে ওরিয়েন্টেশন (Orientation) ব্যবহার করা হয় যাতে পৃষ্ঠার বিন্যাস বা লেআউট ঠিক করা যায়। এটি নির্ধারণ করে যে পৃষ্ঠাটি লম্বা (উল্লম্ব) হবে নাকি চওড়া (অনুভূমিক) হবে।
ডকুমেন্টে পেপার সাইজ (পৃষ্ঠার আকার) ব্যবহার করা হয় কারণ এটি ডকুমেন্টের চেহারা নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে প্রিন্ট বা ডিজিটাল বিতরণের জন্য।
পৃষ্ঠাকে একাধিক কলামে বিভক্ত করুন। ডকুমেন্টে কলাম ব্যবহার করা হয় মূলত দুটি কারণে: প্রথমত, পাঠ্যকে একাধিক কলামে ভাগ করে পৃষ্ঠার জায়গা ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় এবং পাঠকদের জন্য পড়া সহজ হয়।
পেজের দেখার সাইজ ছোট এবং বড় করার আপশন হল Zoom.
ওয়ার্ডে অভিধানে থাকা শব্দের ভুল লিখলে সে সব শব্দ কম্পিউটার ভুল ধরবে এবং লাল দাগে চিহ্নিত Spelling & Grammar Checking এর মাধ্যমে ভুল সংশোধন করা যায়।
একাধিক ঠিকানায় প্রেরণের জন্য একটি চিঠি লিখে সেটা একাধিক ব্যাক্তির নামে তৈরি কারা যায় মেইল মার্জের মাধ্যমে
বিশ্বব্যাপী প্রচলিত কীবোর্ড লেআউটের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো QWERTY লেআউট।
এমএস ওয়ার্ডে বাংলা টাইপিং দক্ষতা অর্জনের জন্য সঠিক কৌশল ও নিয়ম জানা জরুরি। বাংলা টাইপিংয়ের জন্য বেশ কয়েকটি সফটওয়্যার রয়েছে।
সাধারণত স্বরবর্ণ টাইপ করতে কীবোর্ডের নির্দিষ্ট কী ব্যবহার করতে হয়।
প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণ টাইপ করতে নির্দিষ্ট কী চাপতে হয়
যুক্ত বর্ণ টাইপ করতে যুক্ত চিহ্ন (্) ব্যবহার করতে হয়।
বর্ণের সাথে স্বরচিহ্ন যুক্ত করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন
অভ্র ফনেটিক কীবোর্ড হলো এমন একটি কীবোর্ড লেআউট যেখানে বাংলা টাইপ করতে শব্দের ইংরেজি উচ্চারণ লিখলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলা বর্ণে রূপান্তরিত হয়। এটি নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ এবং টাইপিং দ্রুত করতে কার্যকর।
ফনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা স্বরবর্ণ লেখার জন্য ইংরেজি বর্ণের উচ্চারণ লিখুন
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ লেখার জন্য ইংরেজি উচ্চারণ অনুযায়ী টাইপ করুন।
ফনেটিক কীবোর্ডে যুক্ত বর্ণ টাইপ করার নিয়ম:
1. ইংরেজি বর্ণমালায় উচ্চারণ লিখুন।
2. দুই বর্ণের মাঝখানে ্ (হসন্ত) যুক্ত করতে একটি হাইফেন (-) ব্যবহার করুন।
3. অভ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা যুক্ত বর্ণে রূপান্তর করবে।